মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
মনির হোসেন, জবি প্রতিনিধি : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধিনে জবি শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা কে ২০২২ সালে ২৭ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তার কারাজীবনের ১ বছর অতিবাহিত হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী। সোমবার (২৮ আগস্ট ) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্ত্বরে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন রাখেন খাদিজা কি চোর, ডাকাত? সে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। শিক্ষক হিসেবে কি আপনাদের দায়ভার নেই? আপনাদের একজন শিক্ষার্থী এক বছর ধরে জেলে আছে। কিন্তু আপনারা তার জন্য কিছুই করতে পারলেন না। এর চেয়ে লজ্জার কিছু হতে পারে না।
অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলেন, খাদিজাতুল কুবরাকে বিনা বিচারে ৩৬৫ দিন জামিন না দিয়ে কারাগারে আটক রাখা স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। খাদিজার আটকের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এ ভয়ের সংস্কৃতি এতটাই প্রখর হয়েছে যে তার কারণে খাদিজার উপর চলমান অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকেরা মুখ বন্ধ করে আছে। এটা চলতে পারে না।
মানববন্ধনে খাদিজার সহপাঠী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসলিমা জাহান মুন বলেন, বাকস্বাধীনতা বলে আমাদের যে একটি সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে সেটার সুফল আমরা আজ কোথায় পাচ্ছি? আজ দেশে যদি বাকস্বাধীনতা থাকতো তাহলে আমার সহপাঠীকে বিনা বিচারে এক বছর কারাগারে থাকতে হতো না। আমরা যদি বাকস্বাধীনতার সুফল না পেয়ে থাকি তাহলে সংবিধান থেকে বাকস্বাধীনতার বিষয়টি তুলে দেয়আ হউক।
মানববন্ধনে খাদিজার মা ফাতেমা খাতুন মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এক বছর ( ৩৬৫ দিন ) হয়ে গেল খাদিজাকে আমি পাশে নিয়ে ঘুমাতে পারি না। কোন অপরাধে আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হলো? শুধু একটা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করার জন্য এত দিন জেলে থাকতে হবে? এটা আমার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আজ সকলেই আছে কিন্তু আমার মেয়ে পাশে নেই। আমার মেয়ে কে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে আবার যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে বসতে দেয়া হয়।